জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফিরোজ আল মামুন বিশ্বখ্যাত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি মর্যাদাপূর্ণ কমনওয়েলথ স্কলারশিপ এবং ক্যামব্রিজ ট্রাস্টের সম্পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল-ফান্ডেড) বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘এমফিল ইন পপুলেশন হেলথ সায়েন্সেস (জেনেটিক এপিডেমিওলজি)’ প্রোগ্রামে পড়াশোনা করবেন।
এর আগেও বিশ্বসেরা হার্ভার্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক পেয়েছিলেন তরুণ এই গবেষক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক হেলথ বিষয়ে স্নাতক (বিপিএইচ) এবং স্নাতকোত্তর (এমপিএইচ) সম্পন্ন করা মামুনের একাডেমিক ফলাফলও দারুণ—স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৬০ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮৩ (আইইএলটিএস স্কোর ৭.০)।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি গবেষণাক্ষেত্রে ফিরোজ গড়েছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তরুণ গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর স্কোপাস-ইনডেক্সড প্রকাশনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১টিতে। গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণাপত্রগুলোর সাইটেশন সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ছুঁইছুঁই। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ায় প্রভাষক ও রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর এবং ‘চিন্তা রিসার্চ বাংলাদেশ’-এ রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণগত আসক্তি, শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগব্যাধি। জটিল জনস্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে তিনি মেটা-অ্যানালাইসিস, স্ট্যাটিস্টিক্যাল মডেলিং, সাইকোমেট্রিক্স ও কজাল ইনফারেন্সের মতো আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ফিরোজের লক্ষ্য—উন্নত গবেষণার সঙ্গে প্রায়োগিক হস্তক্ষেপের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যবৈষম্য দূরীকরণ ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে প্রমাণভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিতে চান তিনি।
ক্যামব্রিজের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এই প্রতিভাবান গবেষকের সুযোগ প্রাপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মাঝেও গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।