বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করে বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি’ (APS)-এর ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক। গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিরল ও সম্মানজনক স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
নিউক্লিয়ার ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্স গবেষণায় বিশ্বমানের অবদান রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশে আধুনিক কম্পিউটার শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা প্রদান করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি একমাত্র বিজ্ঞানী, যিনি ঐতিহাসিক এই সম্মান অর্জন করলেন।
অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক ১৯৪১ সালের ১৭ অক্টোবর পাবনা শহরের রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন। পাবনা আর. এম. একাডেমি থেকে ১৯৫৭ সালে মেধা তালিকায় প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৯ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর রাজশাহী কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে জাবি/রাবি সম্মাননা হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। পরবর্তীতে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং অ্যান্ড রিসার্চ প্রফেশনাল হিসেবে অবদান রেখেছেন।
বাংলাদেশে কম্পিউটার চর্চার গোড়াপত্তনে তাঁর ভূমিকা অনন্য। ১৯৮৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে শাবিপ্রবির কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠাতেও প্রধান ভূমিকা পালন করেন। দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় সাময়িকীতে তাঁর ১৪০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্সটিটিউট অব ফিজিক্স (IoP)-এর ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (BAS) ফেলো এবং বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য। বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স গোল্ড মেডেলসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান গবেষণাকে বৈশ্বিক দরবারে উঁচু মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করায় সর্বস্তরের শিক্ষাবিদ ও গবেষকবৃন্দ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।