জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চার বছরের জন্য অথবা অবসর গ্রহণের আগপর্যন্ত উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভূগোলে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ফ্লাড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ কনসোর্টিয়ামে পোস্টডক্টরাল গবেষণাও করেছেন। পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বোস ইনস্টিটিউট এবং থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
অধ্যাপক নূরুল ইসলাম তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে। পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে যোগ দেন এবং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। সেখান থেকে অব্যাহতি পেয়ে এবার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি গবেষণায়ও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর ১০টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে এবং ৪২টি দেশীয় জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, বন্যার ঝুঁকি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং পরিবেশদূষণ। বাংলাদেশের পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর গতিপ্রকৃতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ও পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন।
দেশের বাইরেও তাঁর গবেষণার পরিধি বিস্তৃত। নেপালের মধ্য হিমালয়ের গান্ডাকি নদী অববাহিকায় জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের উপলব্ধি নিয়ে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক জার্নাল Atmosphere-এ তাঁর সহলেখক হিসেবে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর অধ্যাপক নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়াতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য।